থ্যালাসেমিয়া বাহক হলে কী করবেন?

মাইনর, ক্যারিয়ার, ট্রেইট একই শব্দ, যার অর্থ হল বাহক। তারা থ্যালাসেমিয়া বাহক, তারা রোগী নয়। বাহকেরা স্বাভাবিক মানুষের মত শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে, সাধারণত তাদের কখনো রক্ত বা চিকিৎসা  লাগেনা। বাহকের কোনো শারীরিক লক্ষণ থাকেনা, তার মানে যে কেউ বাহক হতে পারে।

– হিমোগ্লোবিন ই ট্রেইট

– বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট

এই দুটো হল বাহকের দুইটা ধরণ যা বাংলাদেশে সবচেয়ে কমন।

আপনার হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস রিপোর্ট এ minor, carrier, trait এই শব্দগুলোর যেকোনো একটি থাকলেই বুঝবেন আপনি বাহক (রোগী নন)।

নোট:

১/ প্রত্যেক থ্যালাসেমিয়া রোগীর বাবা-মা দুইজনই অবশ্যই বাহক।

২/ আপনি বাহক হলে নিজেকে রোগী ভাবা বন্ধ করতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে আপনি স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে পারবেন বাকি সবার মতই।

৩/ হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস টেস্ট (রক্ত পরীক্ষা) করে আজই জেনে নিন আপনি বাহক কিনা কারণ বাহকের সাথে বাহকের বিয়ে বন্ধ করাই থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

বাহকদের হিমোগ্লোবিন কিছুটা কম থাকতে পারে, এজন্য ভিটামিন জাতীয় ওষুধ এবং পুষ্টিকর খাবার দিয়ে তা ঠিক রাখা সম্ভব। কোনো কোনো বাহকের বিশেষ প্রয়োজনে হঠাৎ (যেমন এক্সিডেন্ট হলে, অন্যান্য অসুস্থতা বা প্রেগন্যান্সিতে বা বার্ধক্যে) ব্লাড লাগতে পারে যদি তখন হিমোগ্লোবিন বেশি কমে যায়। এ ব্যাপারে তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

কিন্তু বাহকের জীবনসঙ্গীও যদি বাহক হয় তাহলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এজন্য প্রেগন্যান্সির ১০-১৩ সপ্তাহে প্রিন্যাটাল ডায়াগনোসিস (গর্ভের ভ্রূণ পরীক্ষা যেমন সিভিএস বা এমনিওসেন্টেসিস) করে দেখতে হবে গর্ভের বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া রোগ আছে কিনা। তার আগে জীবনসঙ্গীর হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস টেস্ট করে দেখতে হবে সে বাহক কিনা। একজন বাহক অপর একজন বাহককে বিয়ে করা থেকে বিরত থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়, তবে যদি বিয়ে হয়েই যায় তাহলে বাচ্চা নেওয়ার সময় প্রিন্যাটাল ডায়াগনোসিস করতে হবে। যদি দেখা যায় গর্ভের বাচ্চাটির থ্যালাসেমিয়া আছে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে গর্ভপাত করানো বৈধ ও জায়েজ। তবে কোনোভাবেই দেরী করা যাবে না।

আর যদি জীবনসঙ্গী বাহক না হয়ে সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তি হয়, তাহলে বাচ্চা কখনোই থ্যালাসেমিয়া রোগী হবেনা, তাই সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নাই।

অনেক নারী গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস টেস্ট করে প্রথম জানতে পারে যে সে বাহক। গর্ভাবস্থায় একজন নারী থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে এবং রক্ত গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে কারো কারো রক্তের প্রয়োজন নাও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় সব সময় রক্তের হিমোগ্লোবিন ৯ এর উপর রাখতে হবে। থ্যালাসেমিয়া বাহক নারীদের গর্ভকালীন সময়ে Iron দেয়ার আগে অবশ্যই রক্তে Iron এর মাত্রা মাপা উচিত, তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সাথে হাজবেন্ডেরও হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস টেস্ট করে দেখতে হবে সে-ও বাহক কিনা।

লেখাঃ ফারহিন ইসলাম

volunteer
Member form
Blood doner